এইতো সেইদিনের কথা, যখন আমাদের ইন্টারনেট সম্পর্কে খুব বেশি ধারনা ছিলোনা।সেই সময়ে নোকিয়ার জাভা ফোনগুলোতে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যেত।কিন্তু তখনকার মানুষ খুব একটা ইন্টারনেট ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করতো না।যদিও গুটিকয়েক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো, তবে তা অতি নগন্য।

অতঃপর কেটে গেলো কয়েকটা বছর।আমরাও ধীরে ধীরে ইন্টারনেট সম্পর্কে বুঝতে থাকি।জানতে পারি গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব মতো বড় বড় প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে।তারপর বাড়তে থাকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা।

তবে বর্তমান সময়ের চিএটা সম্পূর্ন ভিন্ন।নতুন এই প্রজন্মের কাছে ইন্টারনেট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করছে অনলাইনের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে।আবার অনেকেই আছেন, যারা অনলাইনে ব্যয় করা এই সময়গুলোকে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার কাজে ব্যবহার করছে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার এই মাধ্যমকেই বলা হয়,ফ্রিল্যান্সিং।অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেপ্লেসে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করে, লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে অনেকেই।আপনার আশে-পাশে এমন অনেক মানুষকে খুজে পাবেন।যারা ফ্রিল্যান্সিংকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে? ফ্রিল্যান্সিং সাইট ও কাজ সমূহ
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে? ফ্রিল্যান্সিং সাইট ও কাজ সমূহ
তবে আপনি যদি ভাবেন, ফ্রিল্যান্সিং তো প্রোগ্রামার বা কম্পিউটার এক্সপার্টরা করে।এখানে তো আপনার কোনো কাজ নেই। আপনি এগুলো শিখে কি করবেন।তাহলে বলবো আপনার ধারনাটি সম্পূর্ন ভুল।

- শুনুন, ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনাকে রকেট সাইন্স বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে না।আপনার টেবিলে থাকা কম্পিউটারের সাথে আপনার একটু খাতির থাকলেই যথেস্ট।যদি আপনার মনে একান্ত শেখার আগ্রহ থাকে।তাহলে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং জগতে স্বাগতম।কারন আপনার এই শেখার আগ্রহ থেকেই একদিন নিজেকে সফল ফ্রিল্যান্সারে পরিনত করতে পারবেন।

আর আজকের পোষ্টটি শুধুমাএ আপনার জন্যই লেখা।নতুন হিসেবে আপনার জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় যেমন, ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে,কি কি কাজ করবেন, কোন কাজের চাহিদা বেশি এই সবগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি স্বাধীন পেশা।এই ফ্রিল্যান্সিং পেশায় কাজের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না।থাকে না সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার মতো কোনো তাড়া ।কারন এই পেশায় আপনি নিজেই একটি কোম্পানির মালিক।যে কোম্পানিতে আপনার কোনো বস নেই, বরং আপনি নিজেই নিজের বস।

ঘরে বসে মনিটরের সামনে থাকা কিবোর্ডে হাত বুলিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা। আপনার ইচ্ছে হলো তো কাজ করলেন, আর ইচ্ছে না হলে বসে থাকলেন।আর আপনার দক্ষতার ভিওিতে যতোবেশি কাজ করবেন।আপনার ইনকাম ততোবেশি হবে। আর এ কারনেই এই মুক্তপেশা ফ্রিল্যান্সিংয়ের জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুটা হয়েছিলো ১৯৯৮ সালে।যখন অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসের সূচনা হয়েছিলো।তখন থেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের যাএা শুরু হয়।গ্রাফিক্স ডিজাইন,ওয়েব ডিজাইন,প্রোগ্রামিং এবং এসইওর মতো বড় বড় কাজগুলো সেই সময় থেকেই এসব মার্কেটপ্লেস থেকে সম্পন্ন করা হত।

অনলাইনের প্রতিটা মার্কেটপ্লেস গুলোতে দুটি মাধ্যম থাকে:
  • ক্লায়েন্ট (যিনি কাজ দেন)
  • ফ্রিল্যান্সার (যে কাজ করে)
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে?
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে?
একজন ব্যক্তি ক্লায়েন্ট হিসেবে আপনাকে একটা কাজ দিবে।আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সেই কাজটি করার পর তাকে জমা দিবেন।তারপর ক্লায়েন্ট আপনার কাজের নির্ধারিত পারিশ্রমিক অনুযায়ী পেমেন্ট করবে।ঠিক এভাবেই ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি একজন ক্লায়েন্টের সাথে একজন ফ্রিল্যান্সারের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কি কি কাজ করতে হয়?

একজন ফ্রিল্যান্সার হতে হলে কি কি কাজ করতে হয়।সর্বপ্রথম আপনাকে সে বিষয়ে জানা উচিত।তার পাশাপাশি কোন কাজগুলোর ডিমান্ড বেশি।সে বিষয়ে যথেষ্ট ধারনা রাখতে হবে।কারন অনলাইনে যেসব কাজের চাহিদা আছে, সে সব কাজ করে আপনি যে পরিমান ইনকাম করতে পারবেন।তা চাহিদাবিহীন দশটি কাজ করেও, সে পরিমান ইনকাম করতে পারবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে অনেক ধরনের কাজ পাবেন।নিচে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে? ফ্রিল্যান্সিং সাইট ও কাজ সমূহ
ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে? ফ্রিল্যান্সিং সাইট ও কাজ সমূহ
  • ওয়েব ডিজাইন এন্ড সফটওয়্যার ডেভলোপমেন্ট
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল আলোচিত কাজ হলো, ওয়েবসাইট আইটি এন্ড সফটওয়্যার। Web Design, Web Development, Software Development,It Related কাজগুলো এই সেক্টরের মধ্যে পড়ে।ক্লায়েন্টরা এই কাজগুলো করার জন্য ফ্রিল্যান্সারদের প্রচুর পরিমানে ডলার অফার করে।

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভলোপ সম্পর্কে দক্ষ হয়ে থাকেন।তাহলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য এই অপশনটি বেছে নিতে পারেন।অনেক হিউজ পরিমান কাজের অর্ডার পাওয়া যায় এই সেক্টরে।কিংবা আপনি যদি প্রোগ্রামিং জেনে থাকেন।তাহলেও এই সেক্টরে সফটওয়্যার রিলেটেড অনেক কাজের অর্ডার পাবেন।

যারা নতুন হিসেবে এই সেক্টরে ওয়েব ডিজাইনে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান।তাদেরকে অবশ্যই বেশ কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।যেমন, পিএইচপি,এইচটিএমএল,ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন এন্ড কাস্টমাইজেশন,জাভাস্ক্রিপ্ট সম্পর্কে তুখোর হতে হবে।যেন, আপনার ক্লায়েন্টরা যেভাবে চায়, সেভাবেই তাদের কাজ করতে দিতে পারেন।

আর যারা সফওয়্যার রিলেটেড সেক্টরে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান্।তাহলে আপনাকে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে।যেন প্রতিটা প্রোগ্রামকে নিঁখুতভাবে রান করাতে পারেন।
  • মোবাইল ফোন এন্ড কম্পুটিং
মোবাইল ফোনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে।আর সমান তালে বাড়ছে এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সংখ্যা।সেই তুলনায় একজন এন্ড্রয়েড এপ ডেভলোপারের ডিমান্ড এখন তুঙ্গে।অনেক বড় বড় কোম্পানি অনলাইন মার্কেপ্লেস থেকে দক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে এন্ড্রয়েড এ্যাপস ডেভলোপ করিয়ে থাকেন।

যারা নতুন হিসেবে এই সেক্টরে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান।তাদেরকে অবশ্যই এপ স্টোর অপটিমাইজেশন,এপ ইউস্যাবিলিটি এ্যানালাইসিস সহো এন্ড্রয়েড এপ ক্রিয়েশন এবং ডেভলোপমেন্ট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • রাইটিং এবং কন্টেন্ট 
বলা হয়,সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা হলো, কন্টেন্ট রাইটিং।বর্তমানে ব্লগিং থেকে শুরু করে এফিলিয়েট করার জন্য একজন দক্ষ কন্টেন্ট রাইটারের চাহিদা অনেক বেশি।এছাড়াও আপনার লেখার দক্ষতা থাকলে, শুধু প্রোডাক্টের রিভিউ লিখেই হিউজ পরিমান টাকা ইনকাম করা সম্ভব।একজন মানসম্মত কন্টেন্ট রাইটার তার প্রতিটা কন্টেন্টের জন্য মিনিমাম ১০০ ডলার থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে।

যদি আপনি কন্টেন্ট রাইটিংকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান।তাহলে অবশ্যই আপনাকে ইংলিশে বেশ পটু হতে হবে।তার পাশাপাশি আপনার লেখার মান এবং রিসার্চ করার মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ডিজাইন মিডিয়া এন্ড আর্কিটেকচার
অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আরেকটি জনপ্রিয় সেক্টর হলো, গ্রাফিক্স ডিজাইন।একজন দক্ষ ডিজাইনরার হতে পারলে ফ্রিল্যান্সিং করার পাশাপাশি লোকাল সেক্টর গুলোতেও কাজের সুবিধা পাওয়া যায়।নতুবা শুধু অনলাইন থেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে মাসে ১ লাখ বা তারও বেশি ইনকাম করতে পারবেন।

বিভিন্ন কোম্পানির লোগো,ভিজিটিং কার্ড,ওয়েব টেমপ্লেট ডিজাইন সহো ডিজাইন রিলেটেড কাজগুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।আর ডিজাইন এবং মান অনুযায়ী একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার প্রতি কাজে ৫০ ডলার থেকে মিনিমাম ৫০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে।

যারা নতুন হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টরে আসতে চাচ্ছেন।তাদের অবশ্যই ফটোশপ এবং ইলাষ্ট্রেটর সম্পর্কে পুরোপুরি দক্ষ হতে হবে।তার পাশাপাশি নিজের মধ্যে নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করার মতো ক্রিয়েটিভিটি থাকতে হবে।
  • ডাটা এন্ট্রি
মার্কেটপ্লেসের অন্যান্য কাজের তুলনায় সবচেয়ে সহজ কাজ হলো, ডাটা এন্ট্রি।এটি মূলত একটা টাইপিং রিলেটেড জব। আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে কিছু শিট বা কোনো সোর্স দেখিয়ে দিবে।তারপর আপনাকে আপনার ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী সেগুলোকে এক্সেল শিটে কিংবা ডকুমেন্ট হিসেবে জমা দিবেন।

আপনি জানলে অবাক হবেন যে, এই সেক্টরে অনেকে শুধু টাইপিং করেই মাসে ৫ ডলার থেকে মিনিমাম ১০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে।

আপনি যদি নতুন হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং ইনকামের স্বাদ নিতে চান।তাহলে এই সেক্টরে আপনাকে স্বাগতম ।কেননা এই সেক্টরে কাজ করার জন্য আপনার টাইপিং,এক্সেল,পাওয়ার পয়েন্টের মতো কাজগুলো সম্পর্কে জানলেই যথেষ্ট।
  • ইন্জিনিয়ারিং এন্ড সাইন্স
যদি আপনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার হয়ে থাকেন।কিংবা এই বিষয় সম্পর্কে আপনি বেশ দক্ষ হয়ে থাকেন।তাহলে আপনার জন্য এটি সুসংবাদ বয়ে আনবে।কারন আপনি লোকাল জব করার পাশাপাশি আপনার এই দক্ষতাকে অনলাইনেও কাজে লাগাতে পারবেন।অনলাইনের এই সেক্টরে ইন্জিনিয়ারিং,ডাটা মাইনিং,অটো ক্যাডের মতো কাজগুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

আপনি নতুন হিসেবে এই সেক্টরে কাজ করতে চাইলে, ইলেকট্রিক্যাল সম্পর্কে শতভাগ পারদর্শী হতে হবে।নতুবা এর কোনো বিকল্প নেই।
  • প্রোডাক্ট ডিজাইন এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং
বর্তমানের মানুষ পুরোপুরি অনলাইনের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে।নিত্যদিনের শপিং থেকে শুরু করে রাতের খাবার পর্যন্ত সবকিছুই অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার করে।

তাই  বিভিন্ন কোম্পানি গুলো এই সুযোগকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে। তাদের প্রোডাক্ট গুলোকে কাস্টমারদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য তারাও বেছে নিয়েছে অনলাইনকে।আর কোম্পানির এই কাজগুলি করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে জনবল হায়ার করে থাকে।তাদের প্রোডাক্ট ডিজাইন,প্রোডাক্ট প্রোমোশন,বায়ার খোজার কাজগুলো করার জন্য অনেক জনবলের প্রয়োজন হয়।

যদি নতুন হিসেবে আপনি এই সেক্টরে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান।তাহলে  আপনাকে অবশ্যই প্রোডাক্ট ডিজাইন,সাপ্লায়ার সোর্সিং,ম্যানুফ্যাকচারিং এবং বায়ার সোর্সিয়ে শতভাগ অভিজ্ঞ হতে হবে।
  • সেলস এন্ড মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে অনলাইন ইনকামে বিরাট একটা অংশ জুড়ে অবস্থান করছে।সেজন্য আমরা যেভাবে ডিজিটালের দিকে ধাবিত হচ্ছি, ঠিক সেভাবেই বাড়ছে অনলাইনে প্রচার-প্রচারনার কাজগুলো।আর এসব কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয়, একজন দক্ষ মার্কেটারের।আর এই মার্কেটারদের হায়ার করা হয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলো থেকে।

আপনি নতুন হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই সেক্টরে কাজ করতে চান।তাহলে আপনাকে মার্কেটিং,ইন্টারনেট মার্কেটিং,সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং,সেলস এবং ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে যথেষ্ট পারদর্শী হতে হবে।
  • ট্রান্সলেশন এন্ড ল্যাংগুয়েজ
অন্যান্য কাজের মতো এটিও একটি সম্মানজনক পেশা।বাংলা ভাষার পাশাপাশি আপনি যদি একাধিক ভাষা জানা থাকেন।যেমন, চিন, জাপান,ইংলিশ,ফ্রান্স ইত্যাদি। তাহলে এই সম্মানজনক পেশাটি আপনার জন্য উন্মুক্ত।ফ্রিল্যান্সিংয়ের এই সেক্টরে আপনাকে শুধু এক ভাষার ফাইল গুলোকে অন্য ভাষাতে ট্রান্সলেট করতে হবে।ব্যস এটুকুই!

অনলাইনে এই কাজটির চাহিদা বেশি থাকলেও ,এই কাজের জন্য দক্ষ লোকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।আর এই সেক্টরের প্রতিটি কাজের জন্য মিনিমাম ৫০০ ডলার থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করা সম্ভব।আপনি এই সেক্টরে কাজ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই একের অধিক ভাষায় কথা বলা,লিখতে পারার মতো পূর্নাঙ্গ দক্ষতা থাকতে হবে।
  • অন্যান্য কাজ
উপরোক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরও অনেক ধরনের কাজ রয়েছে।যেমন,ডেলিভারি,কার ড্রাইভিং,পার্সেল ডেলিভারি,প্রিন্টিং,লাইটিংয়ের মতো অনেক ধরনের কাজ রয়েছে।এছাড়াও আপনি যদি একাউন্টিং সম্পর্কে দক্ষ হয়ে থাকেন।তাহলে, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস এ্যানালাইসিস, বিজনেস প্ল্যানের মতো অনেক ধরনের ডিমান্ডেবল কাজ করতে পারবেন।

অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা বেশি?

আপনি এই প্রশ্নটি যতো মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন।দেখবেন, সবাই একেক রকমের উওর দিবে।কেউ হয়তবা বলবে, গ্রাফিক্স ডিজাইনের ডিমান্ড বেশি।আবার কেউ বলবে, ওয়েব ডিজাইনের ডিমান্ড বেশি।আবার কেউ বলবে, ওসব গ্রাফিক্স/ওয়েব ডিজাইন বাদ দিয়ে এপস ডেভলোপমেন্ট শিখো। এর ফলে আপনি দ্বিধায় পড়ে যাবেন, আসলে আপনার কোন কাজটি করা উচিত। তাই এই প্রশ্নটি অন্যকে করার আগে নিজেকে ডিজ্ঞেস করুন, আসলে আপনি কোন কাজটি করতে ভালোবাসেন।

আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মার্কেটপ্লেস গুলো রিসার্চ করলেই বুঝতে পারবেন।প্রায় প্রতিটা কাজের যথেষ্ট মূল্য আছে।প্রয়োজন শুধু আপনার সুক্ষ দক্ষতার।সেটা যে কাজ হোক না কেন,হোক সেটা ওয়েব ডিজাইন কিংবা গ্রাফিক্স ডিজাইন।আপনি যে কোনো একটি কাজকে বেছে নিন।সেই কাজ  সম্পর্কে স্কিল ডেভলোপ করুন।যখন আপনি উক্ত কাজের মাধ্যমে ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারবেন।তখন দেখবেন ইনকাম আপনার পেছনে ছুটবে।

এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে, যারা মূলত ডাটা এন্ট্রির কাজ করেই নিজেকে সফল করতে পেরেছে।আবার অনেকেই আছেন, যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন কিংবা ওয়েব ডিজাইন করেই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছেন।সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রতিটা কাজের প্রচুর চাহিদা আছে।কিন্তু সেই চাহিদার তুলনায় দক্ষ লোকের এখনও যথেষ্ট অভাব রয়েছে অনলাইনের এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে।

ফ্রিল্যান্সিং সাইট

অনলাইন ইনকাম (ফ্রিল্যান্সিং) করার জন্য অনেক গুলো সাইট রয়েছে।তবে সেগুলোর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো।যে ওয়েবসাইট গুলো অনেক বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
  • ফ্রিল্যান্সার 
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস হলো, ফ্রিল্যান্সার ডট কম।এটি এমন একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস।যেখানে একজন ফ্রিল্যান্সার চাইলে তার ফিক্সড প্রাইস এবং ঘন্টা অনুযায়ী কাজ করতে পারে।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার ফলে, এখানে অসংখ্য জব পাওয়া যায়।

➣ যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: পেপাল,স্ক্রিল,পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার।
  • আপওয়ার্ক 
এই মার্কেটপ্লেসের শুরুর দিকে ওডেস্ক নামে পরিচিত হলেও, পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে আপওয়ার্ক রাখা হয়।এই মার্কেটপ্লেসেও একজন ফ্রিল্যান্সার পেপাল কিংবা পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে তার অর্জিত অর্থ উওলন করতে পারবে।

➣ যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: পেপাল,পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার।
  • ফাইভার 
টুকিটাকি কাজ যেমন, লোগো ডিজাইন,ভয়েজ রেকর্ড কিংবা আর্টিকেল রাইটিং জবের জন্য ফাইভার অন্যতম।এখানে একজন ফ্রিল্যান্সার সর্বনিন্ম ৫ ডলারের কাজ পর্যন্ত পেয়ে থাকে।তবে অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের মতো এখানে ফিক্সড প্রাইজ কিংবা ঘন্টা হিসেবে কাজ করার মতো সুবিধা এখানে পাওয়া যাবেনা।

➣ যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: পেপাল,পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার
  • পিপল পার আওয়ার
প্রতি ঘন্টায় মিনিমাম রেটে কাজ করার অন্যতম সাইট হলো, পিপল পার আওয়ার।উক্ত মার্কেটপ্লেস থেকে একজন ফ্রিল্যান্সার চাইলে প্রতি ঘন্টায় কাজ করে বিপুল পরিমান অর্থ উপার্জন করতে পারবে।

➣ যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: পেপাল,স্ক্রিল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার।
  • নাইনটি নাইন ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের সবচেয়ে পছন্দের সারির সাইট হলো, নাইনটি নাইন ডিজাইন।এখানে শুধুমাএ ডিজাইন সম্পর্কিত জব পাওয়া যায়।সেজন্য সব ডিজাইনাররা এই মার্কেটপ্লেসে বেশি ভিড় জমান।আর এখানে একজন ডিজাইনারদের প্রচুর পরিমানে ডিমান্ড রয়েছে।বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো এখান থেকে ডিজাইনারদের হায়ার করে থাকে।

➣ যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: পেওনিয়ার এবং পেপাল।
  • গুরু
অন্যান্য জনপ্রিয় সাইটগুলোর মধ্যে আরেকটি জনপ্রিয় সাইট হলো, গুরু ডট কম।এখানেও একজন ফ্রিল্যান্সার ঘন্টা প্রতি কিংবা ফিক্সড হিসেবে জব পেয়ে থাকেন।

➣ যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: পেপাল,পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্রান্সফার।
  • কাজ কি?
বাংলাদেশের তৈরি একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসের নাম হলো, কাজ কি? এখানে আপনি মাইক্রো জব থেকে শুরু করে সব ধরনের জব করতে পারবেন।তবে এই সাইটটি সবেমাএ যাএা শুরু করেছে।তাই এখানে বিদেশি ক্লায়েন্ট পাওয়া যাবে না।তবে উক্ত মার্কেটপ্লেসের এডমিন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এখানেও বিদেশি ক্লায়েন্ট নিয়ে কাজ করা হবে।যদি তাই হয়,তাহলে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য তা সুসংবাদ।

 যেসব কাজ পাওয়া যায়: জব ক্যাটাগরি
➣ যেভাবে পেমেন্ট নিতে পারবেন: বিকাশ,রকেট,ব্যাংক ট্রান্সফার,পেপাল।