https://www.totobangla.net/search/label/Android

ব্লগিং ক্যারিয়ার- ব্লগ থেকে ইনকাম করে সফল ক্যারিয়ার গড়ুন

অনলাইনে অনেক মাধ্যমেই ইনকাম করা যায়।তবে তার মধ্যে ”ব্লগ থেকে ইনকাম” হলো সবচেয়ে উওম পদ্ধতি।অনেকেই আছে, যারা সফলতার সাথে ব্লগিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছে।

অনলাইনে অনেক মাধ্যমেই ইনকাম করা যায়।তবে তার মধ্যে ”ব্লগ থেকে ইনকাম” হলো সবচেয়ে উওম পদ্ধতি।অনেকেই আছে, যারা সফলতার সাথে ব্লগিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছে।

ব্লগ থেকে ইনকাম করার কথা ভাবছেন?

হ্যাঁ, আপনি ব্লগিং করে আপনার ক্যারিয়ারে সফলতা আনতে পারবেন।তবে এই সেক্টরে আসার আগে আপনাকে একটা কথা বলি। এই কথাটি আপনার সকল হতাশাকে দুর করতে সাহায্য করবে।
    💡Pro Tips:এই সেক্টরে আপনি কখনই দ্রুত  সফলতা পাবেন না।”ব্লগিং” দ্রুততার সাথে সফল হওয়ার মতো প্ল্যাটফর্ম নয়।এখানে আপনি চাইলেও পরিশ্রম করার সাথে সাথেই সাফল্য পাবেন না।
ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করে নিজের ব্লগকে ডেভলপ করা।যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করবেন, সে বিষয় সম্পর্কে রিসার্চ করা।সেই রিসার্চ থেকে যা পাবেন সেগুলোকে ব্লগে প্রয়োগ করা।সবশেষে সফলতার জন্য অপেক্ষা করা-এসবকিছুই হলো একজন ব্লগারের নিত্যদিনের কাজ।

মজার বিষয় হলো,ব্লগিং সেক্টরটি এমন একটি সেক্টর , যেখানে শেষ বলতে কিছু নেই।এই সেক্টরে আপনি যতোবেশি রিসার্চ করবেন।আপনার অভিজ্ঞতার ভিওি ততোবেশি মজবুত হবে।আর যতোবেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন,সাফল্য ততোই কাছে আসতে থাকবে।

যদি আপনার মনে প্রচুর পরিশ্রম করার ক্ষমতা এবং ধৈর্য থাকে।তাহলে ব্লগিং সেক্টরে আপনাকে স্বাগতম।আজকের এই আর্টিকেলটি শুধুমাএ আপনার জন্যই।

এই আর্টিকেলটি একজন নতুন ব্লগারদের জন্য অনেক হেল্পফুল হবে।কারন, একজন নতুন ব্লগার কিভাবে তার ব্লগিং ক্যারিয়ারের শুরু করবে।এবং শেষ অবধি কোন  কোন বিষয়গুলো মেনে ব্লগিং চালিয়ে যেতে হবে।সে সবকিছু আজকের আর্টিকেলে স্টেপ বাই স্টেপ বোঝানোর চেষ্টা করবো।হাতে একটু সময় নিয়ে পড়বেন, কারন আমি শুরুতেই বলছিলাম,”ব্লগিং ক্যারিয়ারে জড়াতে চাইলে নিজের মধ্যে অদম্য ধৈর্যশক্তি থাকা আবশ্যক”।
ব্লগ-থেকে-ইনকাম
ব্লগ-থেকে-ইনকাম

ব্লগিং কি?

যদি এককথায় ব্লগিংয়ের মানে বুঝতে যাই ।তাহলে বলবো, যেখানে আর্টিকেল লেখা হয় এবং সেই আর্টিকেল লেখার পর পাবলিশ করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় “ব্লগিং”।
তবে আপনি যখন ব্লগিংকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচনা করবেন।তখন আপনার জন্য ব্লগিংয়ের সংজ্ঞাটা একটু অন্যরকম হবে।ক্যারিয়ার গড়ার জন্য একজনকে ঠিক তখনিই ব্লগার বলা উচিত।যে ব্যক্তির,
  • রিসার্চ
  • আর্টিকেল রাইটিং
  • এসইও
এই তিনটি বিষয় সমন্ধে বিষদ ধারনা আছে।কারন এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে যদি দক্ষ না হয়ে থাকেন।তাহলে ব্লগিং ক্যারিয়ার গড়ার সিন্ধান্তকে নিছক বোকামী ছাড়া আর কিছুই বলবো না।

যখন আপনি একটি ওয়েবসাইট/ব্লগ খুলবেন।আপনি নিশ্চই চাইবেন, আপনার ওয়েবসাইটি যেন একটি জনপ্রিয় ব্রান্ডে পরিনত হয়,তাইনা?-এখন আপনার ব্রান্ড কিরকম সার্ভিস দিবে, কাষ্টমারদের নিকট সেই সার্ভিস কিভাবে পৌঁছাবে, কাষ্টমার আপনার ব্রান্ডের সার্ভিসে সন্তোষজনক কিনা।এসবকিছু বিষয়ে আপনাকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।
  • আপনি যদি আপনার কাষ্টমারদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানতে চান, আপনাকে দক্ষতার সাথে ”রিসার্চ” করতে হবে।
  • আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটরদের ভালো সার্ভিস দিতে হবে। আর সার্ভিস হিসেবে আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল থাকতে হবে। 
  • তারপর আপনার সার্ভিস কাষ্টমারদের নিকট পৌঁছানোর জন্য  প্রোপারলি ”এসইও” করতে হবে।
এবং এই তিনটি কাজ আপনাকে ঠিক ততোদিন করতে হবে।যতোদিন আপনি ব্লগিংয়ের সাথে যুক্ত থাকবেন।

আপনি চাইলে আমার পূর্বে আলোচনা করা,
  • হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লেখার নিয়ম 
  • সঠিক পদ্ধতিতে অন-পেজ এসইও করার নিয়ম
এই আর্টিকেল দুটি পড়ে নিতে পারেন।যা আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারে সবসময় প্রয়োজন হবে।

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন?

ব্লগিং করবেন, অথচ ভেবে পাচ্ছেন না-”কিভাবে ব্লগিং শুর করবেন?”
অবশ্য কোনো কঠিন কাজে নামার আগে সবাইকে এই সমস্যার সামনে পড়তে হয়। সত্যি কথা বলতে, যখন আমি নিজেই ব্লগিং শুরু করেছিলাম।তখন আমিও ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না, আসলে কিভাবে ব্লগিং শুরু করা যায়।

সেই সময়ে আমাকে গাইডলাইন দেয়ার মতোও কেউ ছিলো না।তাই নিজেই গুগলে অনেক সময় ব্যয় করে রিসার্চ করছি।তারপর সিন্ধান্ত নিতে পেরেছি, আসলে  কিভাবে শুরু করবো আমার ব্লগিং ক্যারিয়ার।

আর সেদিন থেকে আজ অবধি অনেক অজানাকে জানতে পেরেছি।এই সেক্টরে যে বিষয়গুলো খুব কঠিন মনে হতো।সেই বিষয়গুলোকে নিজের মতো করে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করেছি।ব্লগিং ক্যারিয়ারের এতোদিনে আমি যতটুকু জানতে পেরেছি।সেই বিষয়গুলো আপনাদের জানানোর জন্যই তৈরি করেছি, “টোটো বাংলা”- ব্লগে।
ব্লগিং সাধারনত দুটি উপায়ে করা যায়।আপনাকে এই দুটি প্ল্যাটফর্মের যে কোনো একটিতে বেছে নিতে হবে।
  1. গুগল ব্লগ (ব্লগার)
  2. ওয়ার্ডপ্রেস
গুগল ব্লগার: এটি হলো, গুগলের নিজস্ব একটি প্রডাক্ট।গুগল নিজে থেকে আপনার ব্লগের সিকিউরিটি প্রদান করবে।মানে আপনার ব্লগ হ্যাক হওয়ার কোনো ভয় নেই আরকি।সামান্য একটা ডোমেইন কিনে গুগলের ফ্রি হোস্টিং দিয়েই এখানে ব্লগিং করা যায়।
কয়েকবছর আগে অধিকাংশ মানুষ তাদের ব্লগিং জার্নি এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই শুরু করতো।এখনও অনেকেই গুগল ব্লগার দিয়েই ব্লগিং করছে।
  • 💡Pro Tips: ব্লগষ্পট.কম ডোমেইনেও গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়া যায়।তাই গুগল এডসেন্স নিয়ে টেনশন করার কোনো কারন নেই।
ওয়ার্ডপ্রেস: যদি আপনার ব্যয় করার মতো সামর্থ্য থাকে। এবং আপনার ব্লগিং সম্পর্কে কিছু হলেও ধারনা থাকে যেমন, কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়,এসইও করার জন্য কি কি করতে হবে। তাহলে আপনি ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

ওয়ার্ডপেসে কোনো প্রকার কোডিং না জানার সত্বেও।শুধুমাএ ড্রাগ এন্ড ড্রপ করে ওয়েবসাইটকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারবেন।এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করার জন্য অনেক প্লাগিন ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।যা গুগল ব্লগারে পাবেন না।

যখন আপনি সিন্ধান্ত নিবেন যে, কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্লগিং শুরু করা উচিত।তখন নিচের বিষয়গুলো স্টেপগুলো সতর্কতার সাথে অনুসরন করবেন।যেমন,
  • ব্লগের জন্য সঠিক নাম সিলেক্ট করা।
  • পপুলার টিএডি ডোমেইন বেছে নেয়া।
  • ভালো হোস্টিং প্রভাইডারকে বেছে নেয়া।
  • ব্লগিং করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসকে বেশি প্রাধান্য দেয়া।
  • ব্লগের থিমকে ভালোভাবে কাষ্টমাইজ করা।
  • কোন নিশে ব্লগিং করবেন তা সিলেক্ট করা।
ব্লগের নাম: ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার আগে আপনাকে সঠিক নাম বেছে নিতে হবে।মনে রাখবেন, আপনার ব্লগের নামটাই মূল পরিচয় বহন করবে।তাই চেষ্টা করবেন ব্লগের নামটা যেন ব্রান্ডেবল ও ইউনিক হয়।আর সেই নামটি যেন সহজেই উচ্চারন করা যায়।কারন ব্লগের নাম কঠিন হলে, ভিজিটররা কেউ সেই নামটিকে মনে রাখতে পারবে না।

পপুলার ডোমেইন: বর্তমানে ডোমেইন চাহিদার উপর ভিওি করে ডোমেইন এক্সটেনশনের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলছে।তবে আপনাকে সেই ডোমেইন এক্সটেনশনগুলোকে বেছে নিতে হবে যেগুলো খুবই জনপ্রিয়।যেমন, আমাদের বাংলাদেশে .কম এক্সটেনশনটি অনেক জনপ্রিয়।তাই আপনার নিশভেদে ডোমেইন এক্সটেনশনটি বাছাই করবেন।যেমন,
  1. ইনফরমেশন টাইপ ব্লগের জন্য  (.info)
  2. অনলাইনে কোনো সার্ভিস প্রদান করলে (.net)
ভালো হোস্টিং: আপনি যদি আপনার ব্লগকে হোস্টিংয়ের সাথে যুক্ত করতে চান।তাহলে অবশ্যই ভালো মানের হোস্টিং প্রভাইডারের কাছ থেকে নেয়ার চেষ্টা করবেন।আর যে প্রোভাইডারের কাছ থেকে হোস্টিং নিবেন। সেই প্রোভাইডারের কাষ্টমার রিভিউ গুলো দেখে তারপর বিবেচনা করে নিবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসকে প্রাধান্য দেয়া: গুগল ব্লগার থেকে ব্লগ ক্রিয়েট করা যায়।তবে ব্লগ কাষ্টমাইজেশন থেকে শুরু করে এমন অনেক বিষয় আছে।যেগুলো আপনি আপনার সুবিধামতো করতে পারবেন না।কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস থেকে ব্রগ ক্রিয়েট করলে আপনি সব ধরনের সুবিধা পাবেন। আপনার ব্লগকে ইচ্ছামতো অপটিমাইজ করতে পারবেন।তাই আজকের দিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই ব্লগ তৈরি করা উচিত বলে আমি মনে করি। 

থিম কাষ্টমাইজেশন: ধরুন, আপনি একটা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেন।তারপর সেই ওয়েবসাইটের ডিজাইনটি আপনার পছন্দ হলো না।তাহলে কি আপনি সেই ওয়েবসাইটে অন্য কোনো সময় পুনরায় প্রবেশ করবেন?
-ঠিক তেমনি আপনার ব্লগের এমন কাষ্টমাইজেশন এমনভাবে করতে হবে।যেন ভিজিটররা আপনার ব্লগের ডিজাইনকে পছন্দ করে।

নিশ সিলেকশন: ব্লগিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ও কঠিন ধাপ হলো,”নিশ সিলেকশন”।আপনি কোন বিষয়ে ব্লগিং করবেন সেটা আপনাকে নিজেই সিলেক্ট করে নিতে হবে।তাই বেশি সময় নিশ সিলেক্ট করার কাজে ব্যয় করবেন।শুরুতে ভুল নিশ নিয়ে কাজ করলে, ব্লগিং ক্যারিয়ারের মাঝপথে গিয়ে হাল ছেড়ে দেয় অনেকেই।
ব্লগিং নিশ নিয়ে আমি আগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।আপনি নিচের আর্টিকেল টি পড়লেই বুঝতে পারবেন।

ব্লগকে মনিটাইজ করা

ব্লগিংকে যেহুতু ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাচ্ছেন।তাহলে তো অবশ্যই আপনাকে সেই ব্লগ থেকে ইনকাম করতে হবে, তাইনা?
তাহলে এবার আসা যাক মুল বিষয়ে,”কিভাবে ব্লগ থেকে ইনকাম করবেন?”

ব্লগিং করে মূলত ৪ ভাবে ইনকাম করা যায়:
  1. গুগল এডসেন্স এড ব্লগে প্রদর্শন করে।
  2. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে।
  3. অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স সেল করে।
  4. বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সার করার মাধ্যমে।

ব্লগিং ক্যারিয়ার- কিভাবে ব্লগ থেকে ইনকাম করা যায়?

যখন আপনার ব্লগটি জনপ্রিয়তা লাভ করবে।তখন আপনি নিজেই ইনকাম করার অনেকগুলো পথ তৈরি করে নিতে পারবেন।তবে ব্লগিং করে ইনকাম করার সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া বিষয়গুলো নিয়ে এবার জানা যাক।

গুগল এডসেন্স

প্রায় প্রত্যেক ব্লগার তার ব্লগিংয়ের শুরুতে গুগল এডসেন্স থেকেই ইনকামের শুরু করে।গুগলের কাছ থেকে আপনার ব্লগকে মনিটাইজ করতে হবে।তারপর গুগল আপনার ব্লগের ভিজিটরদের এডস প্রদর্শন করাবে।আপনার ভিজিটররা সেই এডস গুলোতে যতোবেশি ক্লিক করবে।আপনার ইনকামও ততোবেশি হবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমানে প্রায় বেশিরভাগ ব্লগার ”এফিলিয়েট মার্কেটিং ”-এর উপর ঝুকে পড়েছে।কারন আপনি যদি ভালোভাবে এফিলিয়েট করতে পারেন।তাহলে আপনি যে পরিমান ইনকাম করতে পারবেন।তা একজন চাকুরিজীবির বেতনের সমান কিংবা তারও বেশি হতে পারে।

অনলাইনে কোর্স সেল 

বর্তমানে প্রায় সবাই অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়েছে।তাই তারা কোনো কিছু শিখতে হলে, অনলাইনে শিখতে বেশি পছন্দ করে।এখন আপনা্র ব্লগে যদি প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে।সেই ভিজিটরগুলো আপনার উপর এবং আপনার দেয়া তথ্যগুলোর উপর অগাধ বিশ্বাস থাকে।তাহলে আপনি বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন কোর্স সেল করে ইনকাম করতে পারবেন।

স্পন্সার 

কথায় আছে, ”যতো প্রচার ততো্ই প্রসার”।যখন আপনার ব্লগটিতে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসবে।তখন আপনি অনেক বড় বড় কোম্পানির কাছ থেকে স্পন্সারের অফার পাবেন।হয়তবা, তাদের কোম্পানির কোনো ব্যানার / ভিডিও আপনার ব্লগে রাখতে বলবে।আর তার দরুন আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করবে।

৩. ব্লগে অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসা

এখানে অর্গানিক ট্রাফিক বলতে, গুগল থেকে আসা ভিজিটরদের বুঝিয়েছি।ব্লগিং ক্যারিয়ারের শুরুতে, কিভাবে আপনার ব্লগে ট্রাফিক আনা যায় ।সে দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিবেন।একবার ভাবুন তো, যদি আপনার ব্লগে ভিজিটর না থাকে।তাহলে সেখান থেকে ইনকাম আসবে কিভাবে?

যখন আপনার ব্লগে প্রচুর ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন।তখন ইনকাম করার অনেকগুলো পথ এমনিতেই খুলে যাবে।আপনার ব্লগে আসা ভিজিটরদের উপর ভিওি করে আপনার ইনকাম দুইগুন / তিনগুন বা তার থেকেও বেশি হবে।

ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটে ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে।সেসব পদ্ধতির মধ্যে গুগল থেকে ট্রাফিক নিয়ে আসার পদ্ধতি সর্বওোম।কারন এই পদ্ধতিতে আপনি কোনো প্রকার ব্যয় না করেই প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আপনার ব্লগে নিয়ে আসতে পারবেন।আপনাকে শুধু এসইও সম্পর্কে ভালোভাবে দক্ষতা রাখতে হবে।

গুগল থেকে অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসার জন্য আপনাকে এসইও করার দুটি বিষয় সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে।
  1. অন পেজ এসইও (On Page SEO)
  2. অফ পেজ এসইও (Off Page SEO)
যখন আপনি আপনার ব্লগের ভিতর থেকে সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ করবেন।তাকে বলা হয়, অনপেজ এসইও
আর যখন ব্লগের বাইরে অপটিমাইজেশন করবেন।তখন সেই অপটিমাইজেশনকে বলা হয়, অফ পেজ এসইও

৪. হাই কোয়ালিটি ব্লগ আর্টিকেল লেখার দক্ষতা

যেহুতু ব্লগিং মূলত আর্টিকেল লেখা এবং সেই আর্টিকেলকে ভিজিটরের জন্য পাবলিশ করার উপযুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম।সেহুতু আপনার মধ্যে লেখালেখি সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।কারন ব্লগে কোয়ালিটি কন্টেন্ট  না থাকলে সেই ব্লগ কখনই গুগলে র‌্যাংক করানো সম্ভব নয়্।

কিভাবে হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট লিখবেন, সে বিষয়ে আমি আগের পোষ্টে বিষদভাবে আলোচনা করেছি।প্রয়োজন হলে দেখে নিতে পারেন।
  • কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন?
তবে হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল বলতে সেইসব  আর্টিকেলকে বোঝায়।যে আর্টিকেল গুলোতে সবচেয়ে বেশি ইনফরমেশন নিয়ে লেখা হয়।ভিজিটররা আপনার ব্লগে এসে যেন নতুন কিছু পায়।

ব্লগে হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লেখার আগে নিজেকে ৩ টি প্রশ্ন করুন:
  1. আপনি কার জন্য লিখবেন?
  2. আপনি কি নতুন ইনফরমেশন দিবেন?
  3. যা লিখবেন, সেগুলো সম্পর্কে মানুষ জানতে চায় কিনা?

৫. কিওয়ার্ড রিসার্চ

প্রত্যেকটা মানুষ যখন কোনো সমস্যায় পড়ে কিংবা কোনো কিছু জানার জন্য গুগলে সার্চ করে।এই মানুষগুলো গুগলে সার্চ করার সময় যে শব্দগুলো  সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহার করে।সেগুলোকে বলা হয়-”কিওয়ার্ড” বা “শব্দচাবি”।

আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখবেন, সে বিষয় সম্পর্কে মানুষ জানতে চায় কিনা।সে বিষয় সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ কেমন।এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার পরিস্কার ধারনা থাকতে হবে।আর এসব জানতে হলে আপনাকে ”কিওয়ার্ড রিসার্চ”-সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা নিতে হবে।এটি হলো, একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের এসইও করার গুরুত্বপূর্ন অংশ।
আমি এই আর্টিকেলের শুরুতেই বলেছিলাম.” যখন আপনি ব্লগিং শুরু করবেন।তখন  আপনার মাঝে যে কোনো বিষয় সম্পর্কে গভীর রিসার্চ করার মতো ধৈর্য থাকতে হবে”।আর এই ধৈর্যের প্রয়োগ করবেন ”কিওয়ার্ড রিসার্চ” করার সময়।

৬.ফ্রিতে ব্লগের প্রচার করা

একটা ব্লগ ক্রিয়েট করলেন।তারপর সেটাকে সুন্দরভাবে কাষ্টমাইজ করে ডিজাইন করলেন। তারপর সেই ব্লগে হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল পাবলিশ করলেন।ঠিক তখনই প্রত্যেক ব্লগারদের মনে এই প্রশ্ন জাগে,”কিভাবে ফ্রিতে তার ব্লগের প্রচার করবে?

আপনার ব্লগের প্রচার দুটি মাধ্যমে করতে পারবেন:
  • পেইড সার্ভিস
  • ফ্রি সার্ভিস
পেইড সার্ভিসে আপনি অর্থ ব্যয় করে, ফেসবুক কিংবা গুগলে কোনো ক্যাম্পেইন চালু করার মাধ্যমে প্রচার করতে পারবেন।তবে যারা ফ্রিতে তার ব্লগকে প্রচার করতে চান।তাদের প্রথম প্রধান কাজ হলো,আর্টিকেল পাবলিশ পর, সেই আর্টিকেলকে গুগলে ইনডেক্স করা।তারপর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার ব্লগের/আর্টিকেলকে শেয়ারিং করা।এখন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন, ফেসবুক,টুইটার,টাম্বলার,কোয়ারা ইত্যাদি থেকে অনেক ট্রাফিক নিয়ে আসা যায়।

💡Pro Tips: সোশ্যাল শেয়ার করলে আপনার ব্লগে হাজার হাজার ভিজিটর নিয়ে আসা সম্ভব।তার পাশাপাশি, গুগলের কাছেও আপনার ব্লগ সম্পর্কে একটা পজেটিভ সিগন্যাল প্রদান করবে।

ব্যাস! এই কয়েকটি স্টেপ হলো ব্লগ থেকে ইনকাম করার ধাপ।একজন নতুন ব্লগারকে এই স্টেপগুলো ততোদিন ফলো করে চলতে হবে।যতোদিন সেই ব্লগিং ক্যারিয়ারের সাথে যুক্ত থাকবে।


নতুনদের জন্য: কিছু প্রশ্ন ও সেই প্রশ্নের উওর

আমি কি আমার চাকরি ছেড়ে ব্লগিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারবো?
উওর: একবারেই না।যেহুতু আপনি জব করছেন, সেহুতু জবের পাশাপাশি ব্লগিংয়ে সময় দেয়ার চেষ্টা করেন।যখন দেখবেন, আপনার ধীরে ধীরে ব্লগিং সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বাড়ছে।পাশাপাশি যে ইনকাম হচ্ছে, তা আপনার জবের থেকে বেশি।সবশেষে ব্লগিং সেক্টরের সব বিষয়কে আপনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন।ঠিক সেই সময়ে আপনাকে ব্লগিংকে ফুল টাইম হিসেবে নিতে পারেন।কিন্তু শুরুতে এতো বড় রিস্ক নিলে, অনর্থ হতে পারে।

➤ আমার ব্লগের আর্টিকেলগুলো সর্বোচ্চ কত শব্দের হতে হবে?
উওর: গুগল তাদের কোর আপডেটে ষ্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।গুগল সার্চ ইন্জিনে শুধুমাএ সেই আর্টিকেলগুলো র‌্যাংক পাবে।যে আর্টিকেলগুলো অনেক তথ্যবহুল।এখন আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখবেন, তা যদি ৫০০ শব্দের মাধ্যমে ভিজিটরকে সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারেন।তাহলে সেই ৫০০ শব্দের আর্টিকেলকে গুগল প্রাধান্য দিবে।আর বর্তমানে বড় আর্টিকেল ভিজিটররাও পড়তে চায় না।তাই সর্বদা ছোট পরিসরে আর্টিকেল লিখে মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

এসইও শিখতে কতদিন সময় লাগে?
উওর: ব্লগিংয়ের শুরুতে সবাই এই প্রশ্নটিই করে।আমার নিজের মধ্যেও একসময় এই প্রশ্নটি জেগেছিলো।পরে জানতে পারি, এসইও সম্পর্কে পূনাঙ্গভাবে কেউ জানে না।কারন যদি কেউ এটা বুঝতে পারে যে, কিভাবে কাজ করলে গুগলের ১ নম্বর পজিশনে যাওয়া যায়।তাহলে সে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাবে।

-তবে হ্যাঁ! এসইও করার কিছু কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা সবাই জানতে পারি।এই পদ্ধতিগুলো জানতে কারও ১ মাস লাগে, আবার কারও ২/৩ মাস লাগতে পারে। এসইও জানতে হলে, আপনাকে নিজে নিজেই প্রচুর পরিমানে রিসার্চ করতে হবে।আপনি যতোবেশি রিসার্চ করবেন, ততোবেশি এসইও সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এসইও করার জন্য কোনটি ভালো,”ব্লগার” নাকি ”ওয়ার্ডপ্রেস” ?
উওর: আমার মতে আপনার যদি সত্যিই কোনো প্রতিভা থেকে থাকে।এবং সেই প্রতিভাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করার মতো ইচ্ছা থাকে।তাহলে যে কোনো একটি প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিতে পারেন।কারন প্রতিভা হলো ছাই চাপা আগুনের মতো।সেই আগুন যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময় বিকশিত করা যায়।

ব্লগ থেকে প্রতি মাসে কত টাকা ইনকাম করা যায়?
উওর; এই প্রশ্নের সঠিক জবাব কেউ দিতে পারবে না।কারন অনেক ব্লগার আছে যারা ১ ঘন্টায় ১০০ ডলার ইনকাম করে।আবার কেউ কেউ আছে, এক মাসেও ১০ ডলার ইনকাম করতে পারে না।তবে ব্লগিংকে সঠিকভাবে জানতে পারা, তারপর সেগুলো সঠিক জায়গাতে প্রয়োগ করতে পারলে ইনকাম জব ইনকামের থেকেও দুইগুন/তিনগুন হতে পারে।

একটি ব্লগকে র‌্যাংকিং করতে কতদিন সময় লাগবে?
উওর: আপনার ব্লগ কিংবা ব্লগ আর্টিকেল কতদিনে র‌্যাংকিং করবে।সেটা সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার নিজের উপর।আপনাকে আগে গুগলের র‌্যাংকিং এলগরিদমের সকল ধাপ সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি যদি হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লিখে সঠিক পদ্ধতিতে এসইও এর সকল ধাপ মেনে কাজ করেন।তাহলে ১-৭ দিনের মধ্যেই র‌্যাংক করতে পারে।




COMMENTS

Name

Android,3,Bangla Tech News,3,Blogger Templates,1,Blogging Tips,11,How to earn money,3,Technology Tips,18,
ltr
item
Toto Bangla: ব্লগিং ক্যারিয়ার- ব্লগ থেকে ইনকাম করে সফল ক্যারিয়ার গড়ুন
ব্লগিং ক্যারিয়ার- ব্লগ থেকে ইনকাম করে সফল ক্যারিয়ার গড়ুন
অনলাইনে অনেক মাধ্যমেই ইনকাম করা যায়।তবে তার মধ্যে ”ব্লগ থেকে ইনকাম” হলো সবচেয়ে উওম পদ্ধতি।অনেকেই আছে, যারা সফলতার সাথে ব্লগিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছে।
https://1.bp.blogspot.com/-t4uGZQqOEyM/Xa1ro6upGaI/AAAAAAAABKo/PKQ8P7pgf4IQgbNOhMlwDzE4qbfx-BCMgCLcBGAsYHQ/s640/%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%2597-%25E0%25A6%25A5%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%2595%25E0%25A7%2587-%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25AE.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-t4uGZQqOEyM/Xa1ro6upGaI/AAAAAAAABKo/PKQ8P7pgf4IQgbNOhMlwDzE4qbfx-BCMgCLcBGAsYHQ/s72-c/%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%2597-%25E0%25A6%25A5%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%2595%25E0%25A7%2587-%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25AE.jpg
Toto Bangla
https://www.totobangla.net/2019/10/blog-theke-income.html
https://www.totobangla.net/
https://www.totobangla.net/
https://www.totobangla.net/2019/10/blog-theke-income.html
true
2751192689318996488
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy