https://www.totobangla.net/search/label/Android

ব্লগিং নিশ কি? কিভাবে সবচেয়ে সহজ ব্লগিং নিশ বাছাই করবেন?

ব্লগিং নিশ কে একটা আর্টিকেলের মাধ্যমে সম্পূর্ন আলোচনা করা সম্ভব না।কারন ব্লগিং নিশ হলো একটি তথ্যবহুল সেক্টর।ব্লগিংয়ের গুরুত্বপূর্ন ধাপ হলো, নিশ সিলেকশন।

”ব্লগিং নিশ”-কে একটা আর্টিকেলের মাধ্যমে সম্পূর্ন আলোচনা করা সম্ভব না।এ বিষয় সম্পর্কে যতো কিছু বলা হোক না কেন।পরিশেষে কিছু থেকেই যায়।কারন  নিশ এমন একটা তথ্যবহুল সেক্টর।যে সেক্টর নিয়ে আপনি যতো বেশি রিসার্চ করবেন,ততোবেশি তথ্য পাবেন।আর এই তথ্যগুলোই আপনাকে ব্লগিং নিশ সম্পর্কে পূনাঙ্গ জ্ঞান দিতে সহায়তা করবে।

💡 Tips:যেহুতু একটি পোষ্টের মাধ্যমে ব্লগিং নিশ সম্পর্কে আলোচনা করা সম্ভব নয়।তাই চেষ্টা করবো শুধু গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার।

ফ্রিল্যান্সিং পেশা এমন একটি পেশা, যেখানে অনলাইনে থাকা খুটি-নাটি সব বিষয় সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে।কিন্তুু আপনি যদি কিছু কিছু বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে চলেন।তাহলে এই সেক্টরে টিকে থাকতে অনেকটা বেগ পেতে হবে।কারন এই সেক্টরে কেবলমাএ দক্ষ ব্যক্তিরাই ঠাঁই পায়।আর বাকি ব্যক্তিরা অদক্ষ হওয়ার ফলে, ঝড়ে পড়ে এই ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম থেকে।

ব্লগিংয়ের ক্ষেএেও ঠিক এমনটাই ঘটে।অনেকেই চায় ব্লগিং নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার।তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সবাই তো ব্লগিং শুরু করে ঠিকই।কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারেনা।কারন হিসেবে দেখা যায়, অনেকেই ব্লগিং ক্যারিয়ারের শুরুতেই ভুল পথে পা দেয়া।

যার দরুন ব্লগিং সেক্টর থেকে ছিটকে পড়তে হয় অনেক ব্লগারকে। তবে অনলাইন ক্যারিয়ার থেকে ছিটকে পড়ার অনেক কারন থাকলেও। ব্লগিং ক্যারিয়ার গড়তে অসফল হওয়ার প্রধান কারন হলো,  বিচার বিবেচনা না করে ভুল ব্লগিং নিশ নির্বাচন করা।
ব্লগিং নিশ কি?কিভাবে সহজ ব্লগিং নিশ বাছাই করবেন?
ব্লগিং নিশ কি?কিভাবে সহজ ব্লগিং নিশ বাছাই করবেন?

ব্লগিং নিশ কি?

নিশ বলতে,যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে।সেই বিষয়কে নিয়ে যখন বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। সেই বিষয়কেই বলা হয় ”নিশ”।উদাহরন হিসেবে বলা যায়, ”অনলাইন ইনকাম” হলো বৃহৎ একটি সেক্টর।তবে অনলাইন ইনকামের তো অনেক অংশ আছে,- তাইনা?যেমন, ওয়েব ডিজাইন,গ্রাফিক্স ডিজাইন,থ্রিডি এনিমেশন ইত্যাদি।অনলাইন ইনকামের এই যে বিভিন্ন বিষয় আছে।এই  বিষয়গুলোই হলো ”নিশ”।

একইভাবে এই নিশ যখন ব্লগারদের ক্ষেএে বিবেচনা করবেন।তখন তাকে বলা হয় ”ব্লগিং নিশ”।অনলাইনে যখন আপনার একটি ব্লগ থাকবে।যখন আপনি আপনার সেই ব্লগে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করবেন।তখন ব্লগার হবে আপনার মূল পরিচয়। এবং আপনি আপনার ব্লগ সাইটে যে টপিকের উপর লেখালেখি করে।মূলত সেই টপিক-কে বলা হয় ব্লগিং নিশ


বিষয়টা আরও সহজভাবে বুঝিয়ে বলি, ধরে নিলাম আপনার একটি ব্লগ সাইট আছে।আপনি নিয়মিত সেই ব্লগে ”টেকনোলজি” সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল পাবলিশ করেন।আপনার ব্লগের পাঠকদের টেকনোলোজি সম্পর্কে বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস দেন। তাহলে ”টেকনোলোজি” হলো আপনার ব্লগের নিশ।

আমার বিষয়টাই খেয়াল করে দেখুন তো। আমি আমার ব্লগে আপনার জন্য ব্লগিং নিয়ে লেখালেখি করছি।যেমন, কিভাবে ব্লগিং করতে হয়, কিভাবে এডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করবেন, কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন ্ইত্যাদি।তাই বলা যায়, আমার ব্লগের নিশ হলো, ”ব্লগিং”।


”নিশ কি” এবং ”ব্লগিং নিশ” কাকে বলে? আশা করি এতক্ষনে সে সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পেয়ে গেছেন।এবার চলুন জেনে নেই নিশকে কতভাগে ভাগ করা যায়।

কাজের ক্ষেএে নিশকে আমি দুইভাগে ভাগ করেছি, যেমন:
  1. সিঙ্গেল নিশ
  2. মাইক্রো নিশ
সিঙ্গেল নিশ: একটু আগে আমি টেকনোলোজি নিশ নিয়ে কথা বলেছি।মূলত ”টেকনোলোজি” হলো অনলাইনের একটি বৃহৎ সেক্টর।তবে আপনি চাইলে এই সেক্টরকে অনেক ছোট ছোট অংশে ভাগ করতে পারবেন।এবং ভাগ করা সেই ছোট ছোট অংশগুলোকে নিশ হিসেবে সিলেক্ট করতে পারবেন।

যদি আমরা ”টেকনোলোজি” সেক্টরকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করতে চাই।তাহলে ”টেকনোলোজি”র সাথে সম্পৃক্ত অনেক বিষয় আছে। যেমন, মোবাইল,কম্পিউটার,ট্যাব,সহো অনেক অনেক বিষয় সামনে চলে আসবে।এখন আপনি চাইলে ভাগ করা এই অংশগুলোর মধ্যে যেটিকে ভালো মনে হয়।সেটিকে নিশ হিসেবে সিলেক্ট করতে পারবেন।
এভাবে যখন আমরা একটি বৃহৎ সেক্টরে ভাগ করে ছোট ছোট অংশকে নিশ হিসেবে ব্লগিং কাজ করবেন।তখন সেই নিশকে বলা হয়, সিঙ্গেল নিশ।

মাইক্রো নিশ: যেভাবে আপনি একটি বৃহৎ সেক্টরকে ভিন্ন অংশে ভাগ  করে সিঙ্গেল নিশ বের করছেন।ঠিক সেভাবেই যখন আপনি এই ”সিঙ্গেল নিশ”- কে আরও ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করবেন যে নিশগুলো পাবেন।সেই নিশগুলোই হলো “মাইক্রো নিশ”।

যেমন, ধরে নিলাম ”মোবাইল” একটি নিশ।মোবাইলকে এখন যদি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করতে যান।তাহলে মোবাইলের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় আপনার সামনে চলে আসবে। যেমন,এন্ড্রয়েড,জেলিবিন,কিটক্যাট,এপস,গেমস সহো আরও অনেক বিষয় রয়েছে।তো যখন আপনি এ বিষয়গুলো নিয়ে ব্লগিং করবেন।তখন আপনার নিশকে ব্লগিং নিশ-কে বলা হবে, ”মাইক্রো নিশ”।

এভাবে একটা নিশকে আরও অনেক ছোট ছোট অংশে ভাগ করা সম্ভব।সেজন্যই আমি পোস্টের শুরুতেই বলেছিলাম।নিশ নিয়ে একটা আর্টিকেলের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব না।এ বিষয় সম্পর্কে আপনি যতো বেশি রিসার্চ করবেন।ততোবেশি তথ্য পাবেন জানার জন্য।
আরও জানুন: এডসেন্স একাউন্ট পিন লেটার কি? বিস্তারিত তথ্য

সঠিক ব্লগিং নিশ কতটা প্রয়োজনীয়?

আমি আর্টিকেলের শুরুর দিকে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর হতে অদক্ষ ব্যক্তিদের ঝড়ে পড়ার কথা বলেছিলাম।এখন সেই ব্যক্তিদের ঝড়ে পড়ার কিছু কারন দর্শানোর চেষ্টা করবো।অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখে যখন আমরা ইয়াহু! বলে লাফিয়ে পড়ি।তখন বেশিরভাগ মানুষ সঠিকপথে লাফ না দিয়ে ভুল পথে লাফ দিয়ে ফেলে।

এই সেক্টরে সফল না হওয়ার হাজারো কারন রয়েছে।তবে সেগুলোর মধ্যে মূল কারন হলো,শুরুতে সঠিক পথ বেছে না নেওয়া।একটা বিষয় ভাবুন তো, শচীন টেন্ডুলকারকে যদি কবিতা লিখতে বলা হত।আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যদি ক্রিকেট খেলতে বলা হতো।তাহলে তারা কি আজ  কোথায় পড়ে থাকতো? তারা কি এতোদূরে আসতে পারতো?

-না কখনই আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতো না।কিন্তু তারা তাদের জীবনে সটিক পথটি বেছে নিতে পেরেছে বলেই আজকে এতোদূরে আসতে পেরেছে।

ঠিক তেমনি আপনি যদি ব্লগিং করে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান।কিন্তু ব্লগিংয়ের শুরুতে নিশ সম্পর্কে ততোটা ভালো ধারনা না রাখেন।এ সম্পর্কে ভালোভাবে রিসার্চ না করেন। তাহলে আপনারও ব্লগিং সেক্টর থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশিই থাকবে।

কারন, ব্লগিং সেক্টরটা হলো দীর্ঘমেয়াদী একটা সেক্টর।এই সেক্টরে আপনি চাইলেও পরিশ্রম করার সাথে সাথেই ফলাফল পাবেন না।আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং করবেন।সে বিষয় সম্পর্কে আপনার ব্লগকে অনেক তথ্যবহুল করে রাখতে হবে।যেন ভিডিজটররা আপনার ব্লগ থেকে নতুন কিছু শিখতে পারে।এতে করে আপনার ব্লগের ভিজিটর ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়বে।আর তারপর ধীরে ধীরে আপনার ব্লগটিও গুগলের নজরে আসতে শুরু করবে।

কিন্তু আপনি যদি শুরুতেই ভুল নিশ নিয়ে ব্লগিং শুরু করেন।তবে আপনি তো ব্লগ সাইট তৈরি করবেন ঠিকই।কিন্তু ভুল নিশে কাজ করতে করতে একসময় এই বিষয়ের উপর কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।কাজ করার মানসিকতা ধীরে ধীরে কমে যাবে।একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে বলবেন, ”না, এসব আমাকে দিয়ে হবে না”।তখন আপনার সময়,পরিশ্রম,অর্থ সবগুলোই খোয়া যাবে।

কোনোরকম বিচার বিবেচনা না করে, ভুল বিষয়ে ব্লগিং করার প্রধান সমস্যা হলো, আপনার ব্লগকে কন্টিনিউ করার জন্য নতুন নতুন টপিক খুজে না পাবেন না।আর ব্লগে নতুন পোষ্ট পাবলিশ করে ব্লগকে আপডেট না করলে।ভিজিটর আর ইনকাম দুটোই যে হারাবেন।তা তো ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন


ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার আগে সবার আগেই আপনাকে সঠিক ”নিশ” সিলেকশন করতে হবে।কিন্তু যদি আপনি ব্লগিং শুরুর দিকে এ বিষয় সম্পর্কে তেমন একটা ধারনা না রাখেন।কিংবা তেমন রিসার্চ না করে অন্যর দেখাদেখি ভুল কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করেন।তাহলে ব্লগিং সেক্টরে সফলতা পাওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

নিশ সিলেকশন কি?

ব্লগিং নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ন ধাপ হলো, ”নিশ সিলেকশন” করা।আপনি কোন বিষয়ে ব্লগিং করবেন, কোন বিষয়টা আপনার জন্য ভালো হবে এসবকিছু অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে।অনেক সময় ব্যয় করে রিসার্চ করার পর আপনাকে নিশ সিলেকশন করতে হবে।রিসার্চ করার সময় প্রয়োজনে ২ দিন বা ৩ দিন কিংবা ১ মাস ব্যয় করুন।তবুও ভালোভাবে রিসার্চ করে কাজে লেগে পড়বেন।

ব্লগিং করার জন্য অনলাইনে হাজার হাজার টপিক রয়েছে।সেগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত বিচার বিবেচনার পর যখন আপনি  একটা টপিক সিলেক্ট করবেন।এবং বিষয় নিয়ে ব্লগিং করার সিন্ধান্ত নিবেন।মূলত তাকেই বলা হয় নিশ সিলেকশন।

কিভাবে নিশ সিলেক্ট করবেন?

ব্লগিং করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নিশ সিলেকশনে।কোন বিষয়ে ব্লগিং করতে চান সেটি সিলেক্ট করার আগে।অনেক বিষয় সম্পর্কে আপনাকে দক্ষতার সহিত রিসার্চ করতে হবে।”ব্লগিং নিশ”-সম্পর্কে খুটিনাটি সব বিষয় রিসার্চ করার পর যে বিষয়টি আপনার কাছে পারফেক্ট মনে হবে।সে বিষয় নিয়েই আপনি ব্লগিং করার জন্য এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিবেন।

তবে আপনি কোন কোন বিষয়গুলো নিশ সিলেকশনের জন্য খেয়াল রাখবেন।সে বিষয়গুলো নিয়ে এবার ছোট একটা আলোচনা করি।যেন, আপনি আর অন্য ৮/১০ জনের মতো ভুল পথে পা না বাড়ান।

অনলাইনে চাহিদা কেমন: আপনি কোনো একটা বিষয় নিয়ে ব্লগিং করতে চাচ্ছেন।তার আগে দেখতে হবে অনলাইনে সেই বিষয় সম্পর্কে চাহিদা কেমন। অনলাইনে সে বিষয় সম্পর্কে মানুষ কি পরিমান সার্চ করে।কারন আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করবেন, সে বিষয়ে মানুষ যদি সার্চ না করে।তাহলে আপনার ওয়েবসাইট গুগলে টপ র‌্যাংকে থাকলেও কোনো লাভ হবে না।তাই এমন একটি বিষয় নির্বাচন করতে হবে।যে বিষয়ে অনলাইনেও চাহিদা প্রচুর।

আপনি যে বিষয়ে দক্ষ: ্আমি আগেও বলেছি, ব্লগিং হলো দীর্ঘমেয়াদী একটা সেক্টর।এখানে আপনি চাইলেও দ্রুত সফল হতে পারবেন না।ব্লগিং করার শুরুর দিকে আপনাকে অনেকটা সময় বিনা ইনকামে পরিশ্রম করতে হবে।আপনাকে আপনার ব্লগকে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করে আপডেট রাখতে হবে।যদি আপনি আপনার ব্লগকে নিয়মিত পোষ্ট না দিয়ে আপডেট না করেন।তাহলে অন্যান্য ব্লগারদের থেকে গুগল র‌্যাংকে অনেক পিছিয়ে পড়বেন।
কিন্তু আসল কথা হলো, আপনি ব্লগিং করার জন্য এমন একটি ”ব্লগিং নিশ” সিলেক্ট করলেন।যে বিষয়ে আপনি নিজেই তেমন একটা দক্ষ না।আর দক্ষ না হলে কিভাবে আপনি আপনার ব্লগে ভিজিটরদের সে বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন?কিভাবে সেই বিষয় সম্পর্কে নিত্যনতুন টিপস এন্ড ট্রিকস দিবেন? বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন তো!

আচ্ছা মেনে নিলাম, আপনি গুগল কিংবা ইউটিউব ভিডিও দেখে দেখে না হয় কয়েকটা পোষ্ট দিলেন।কিন্তু এমন একটা সময় আসবে যখন আপনি এভাবে আর্টিকেল লিখতে লিখতে আর্টিকেল  লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।আবার লেখার মতো কোনো টপিক খুজে পাবেন না।এমন অবস্থায় মাঝপথ থেকে ব্লগিং ছেড়ে দিতে হবে।
তাই এমন কোনো বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করুন।যে বিষয়ে আপনি যথেষ্ট দক্ষ।আপনি চাইলেই সেই বিষয় সম্পর্কে নিত্যনতুন টপিক নিয়ে লিখতে পারবেন।এক টপিককে ভিন্নভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখতে পারবেন।সেরকম কোনো বিষয় নিয়ে ব্লগিং করা শুরু করলে আপনাকে আর ব্লগিংয়ের মাঝপথে এসে হাল ছাড়তে হবে না।
আপনার আগ্রহ: ব্লগিং নিশ সিলেকশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হলো, আসলে আপনার কোন বিষয়ে আগ্রহ বেশি আছে।সে বিষয়টি আপনাকে নিজে থেকেই খুজে নিতে হবে।আপনার মধ্যে এমন কোন বিষয় সম্পর্কে গভীর আগ্রহ আছে।যে বিষয়ে ব্লগিং করলে বছরের পর বছর কাজ করলেও বিরক্তবোধ করবেন না।এমন কোন বিষয় আছে, যা সম্পর্কে আপনি সহজেই কিছু লিখতে পারবেন।সে বিষয় নিয়েই আপনি ব্লগিং শুরু করুন্।

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে, যারা অন্যর দেখে নিজের ব্লগিং নিশ সিলেক্ট করে।যেমন,” অমুক একটা নিশে ব্লগিং করে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে।আমিও সে বিষয়ে ব্লগিং শুরু করে দেই”।এভাবে কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা না করেই সেই বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করে দেয়।কিন্তু অমুকের সেই নিশ নিয়ে তার নিজেরেই তেমন আগ্রহ নেই।আগ্রহ আছে শুধু টাকা ইনকামে। যা একজন ব্লগারের ব্লগিং ক্যারিয়ারের শুরুতেই করা বড় ভুলের মধ্যে একটি।

নিশ ভবিষ্যৎ:  যখন আপনি আপনার ব্লগের জন্য ব্লগিং নিশ সিলেক্ট করবেন।তখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এই বিষয়টির উপর।কারন, আপনি যদি  এমন একটা নিশ নিয়ে ব্লগিং শুরু করলেন।যার চাহিদা আগামী ১ বছর কিংবা ২ বছর থাকলো।তারপর সেই বিষয়ে মানুষের আগ্রহ হারিয়ে ফেললো।তাহলে এই বিষয় নিয়ে ব্লগিং করলে অনেক বেশি ক্ষতির সমুখ্খিন হতে হবে আপনাকে।

যেমন ধরুন, আপনি ব্লগ শুর করলেন “আইফেন ৭” নিয়ে।এখন মুল বিষয় হলো, আইফোন কোম্পানি তো তাদের আরও নতুন নতুন মডেল বাজারে নিয়ে আসবে তাইনা? তাহলে ‍নতুন মডেল আসার পর মানুষ কি আর “আইফোন ৭” নিয়ে সার্চ করবে? আর করলেও তার পরিমান অনেক কম।তো ব্লগিং নিশ সিলেকশন করার সময় স্বল্পমেয়াদী কোন নিশ সিলেক্ট করে ভুল করবেন না।

অনলাইনে প্রতিযোগীতা:আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং করতে চাচ্ছেন।সে বিষয়ে আগে গুগলে সার্চ করুন।দেখুন কোনো হাই অথোরিটি সাইট আগে থেকেই সেই বিষয়ে কাজ করছে কিনা।যদি দেখেন কোনো সাইট আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ করছে।তাহলে সেই সাইট সম্পর্কে ভালোভাবে রিসার্চ করুন।ভালোভাবে লক্ষ্য করুন, আপনি সেই সাইটের সাথে প্রতিয়োগীতা করে টিকে থাকতে পারবেন কিনা।

কারন যদি আপনার সিলেক্ট করা বিষয়ে অন্য কেউ অনেক আগে থেকেই কাজ করে।এবং গুগলের র‌্যাংকেও খুব ভালো পজিশনে অবস্থান করে আছে।তাহলে তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করাটা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।অনেক সময় তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।তাবে যদি সেই সাইটগুলোকে দেখে আপনার মনে হয়, আপনি তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে পারবেন।তাহলে আপনিও সে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করা শুরু করে দিতে পারেন।

কিভাবে নিশ কম্পিটিশন বাছাই করবেন?

আমার মোটা মাথা নিয়ে ব্লগিং নিশ কে সাধারনত তিনটি ভাগে ভাগ করেছি।যা,
  1. হাই কম্পিটিশন 
  2. মিডিয়াম কম্পিটিশন
  3. লো কম্পিটিশন
  • হাই কম্পিটিশন নিশ: আমি শুরুতেই বলেছি, ব্লগিং করার জন্য অনলাইনে হাজার হাজার টপিক পাবেন।আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং করতে চান।সে বিষয়টি লিখে গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইন্জিনে সার্চ করলে দেখবেন।অনেক আগেই সেই বিষয় নিয়ে কেউ না কেউ অলরেডি ব্লগিং করছে।এখন আপনি যদি সেই একই বিষয় নিয়ে নতুনভাবে ব্লগিং করা শুরু করেন।তাহলে তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকতে পারবেন না।অথবা টিকে থাকতে হলে, তাদের সাথে অনেক প্রতিযোগীতা করতে হবে। কারন এতোদিনে সেই সাইটগুলো গুগলের র‌্যাংকিং এ খুব ভালো পজিশনে অবস্থান করে ফেলেছে।আর তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করা মোটেও সহজ বিষয় নয়।সেটা তো ভালো করেই বুঝতে পারছেন।
  • মিডিয়াম কম্পিটিশন: আবার  অনলাইনে কিছু কিছু বিষয় আছে, যেগুলোতে প্রতিযোগীতা মাঝারি ধরনের।তাই সেসব বিষয়কে মিডিয়াম কম্পিটিশন নিশ হিসেবেই ধরে নিবো। মিডিয়াম কম্পিটিশন থাকা বিষয়ে ব্লগিং করতে চাইলে করতে পারেন।তবে তার জন্য আপনার যথেষ্ট এসইও দক্ষতা থাকতে হবে।সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি অন্যদের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকে থাকতে পারবেন।
  • লো কম্পিটিশন: অনলাইনে থাকা হাজার হাজার টপিকের মধ্যে সবচেয়ে সহজ টপিক।যে টপিক গুলো নিয়ে এখনও কেউ ব্লগিং করেনি।আবার এসব টপিকে কিছু ব্লগ সাইট থাকলেও, সেই সাইটগুলো গুগলের কাছে তেমন অথোরিটি বিল্ডআপ করতে পারেনি।
একজন নতুন ব্লগার হিসেবে আমি বলবো, এইসব লো কম্পিটিশন নিশে ব্লগিং করার।কারন এসব টপিকে নিয়ে ব্লগিং করলে সহজেই আপনি আপনার ব্লগ সাইটকে গুগলে র‌্যাংক করাতে পারবেন।

কিভাবে নিশ কম্পিটিশন চেক করবো?

কোন নিশে কেমন কম্পিটিশন তা দেখার জন্য অনলাইনে অনেক রকমের টুলস পাবেন।তাদের মধ্যে অনেক টুলস পেইড আবার কিছু কিছু টুলস ফ্রিতে পাবেন।

💡 Tips: বর্তমান সময়ে অনলাইনে সব সেক্টরেই প্রতিযোগীতা বহুগুন বেড়ে গেছে।যদি আপনার ব্যয় করার সামর্থ্য থাকে।তাহলে আমি বলবো, পেইড টুলসগুলো ব্যবহার করার।কারন অনলাইনে থাকা পেইড টুলসগুলো আপনাকে এসইও করার ক্ষেএে অনেক সাহায্য করবে।

তবে আজকে আমি পেইড টুলস সম্পর্কে বলবো না।ফ্রি টুলস দিয়ে কিভাবে নিশ কম্পিটিশন নির্বাচন করবেন।সে বিষয়েই আজকে আলোচনা করবো।
  • উবারসাজেষ্ট: বর্তমানে কিওয়ার্ড রিসার্চ থেকে শুরু করে এসইও-তে হেল্প করার সবচেয়ে পাওয়ারফুল ফ্রি টুলস হলো উবারসাজেষ্ট।সঠিকভাবে এই টুলসকে ব্যবহার করলে এই টুলস দিয়েই আপনি অনেককিছু পাবেন।যা পেইড টুলসের সমান।আপনি এই টুলসের সাহায্য যেকোনো নিশ থেকে শুরু করে কিওয়ার্ড এর কম্পিটিশন সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পাবেন।
  • গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার: আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করতে চান।সে বিষয় সম্পর্কে পূনাঙ্গ ধারনা পেতে গুগলের নিজস্ব টুলস “গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার” ব্যবহার করতে পারেন।আপনি এই টুলসের সাহায্য আপনি যেকোনো কিওয়ার্ড এবং নিশ সম্পর্কে ধারনা পাবেন।
  • কিওয়ার্ড এভরিহোয়্যার: যদি আপনি পিসি ইউজার হয়ে থাকেন।তাহলে কিওয়ার্ড এভরিহ্যোার নামের এক্সটেশনটি আপনার অনেক উপকারে আসবে।প্রথমত আপনি আপনার ব্রাউজারে এই এক্সটেনশনকে ইনষ্টল করে নিবেন।গুগল কিংবা অন্য কোথাও সার্চ করা মাএই সেই কিওয়ার্ড এর কম্পিটিশন, সার্চ ভলিউম এবং সিপিসি সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবেন।
আমি মূলত রিসার্চ করার ক্ষেএে এই তিনটি ফ্রি টুলস ব্যবহার করে থাকি।এসব টুলসের পাশাপাশি কিছু পেইড টুলসও ব্যবহার করি।

কোন নিশগুলো নিয়ে আপনি ব্লগিং করবেন?

ব্লগিং করতে চাইলে অনলাইনে অনেক নিশ পাবেন।সত্যি কথা বলতে যারাই নতুন ব্লগিংয়ে পা রাখেন।তারাই মূলত তিনটি ব্লগিং নিশ নিয়ে কাজ শুরু করেন।
  • টেকনোলোজি
  • নিউজ
  • হেলথ
কিন্তু এখনকার দিনে সবাই এইসব নিশ নিয়ে কাজ করার কারনে প্রতিযোগীতা অনেক বেড়ে গেছে।আবার এই সব নিশে অনেক বড় বড় হাই অথোরিটি ওয়েবসাইট আছে।যারা অনেক আগে থেকেই গুগলে র‌্যাংক করে আছে।তবে যদি আপনার তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করার মতো ক্ষমতা থাকে।তাহলে আপনি এই তিনটি বিষয়ে ব্লগিং নিশ হিসেবে সিলেক্ট করতে পারবেন।

উপরে আলোচিত এই তিনটি বিষয় ছাড়াও আরও অনেক ব্লগিং নিশ আছে।যেগুলো নিয়ে আপনি ব্লগিং করতে পারেন।যেমন,
  • খাদ্য
  • লেখাপড়া
  • লাইফস্টাইল
  • রিভিউ
  • রাজনীতি 
  • কৃষি 
  • ব্যবসা 
  • ইন্টারভিউ 
  • ক্যারিয়ার গাইড
  • গল্প/কৌতুক/কবিতা
  • খেলাধুলা 
শেষকথা: ব্লগিং নিশ সম্পর্কে আজকের আলোচনা এ পর্যন্তই।তবে একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি সেই ব্লগিং নিশ নিয়েই ব্লগিং করবেন।যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনি পুরোপুরি দক্ষ।আর আপনি আপনার দক্ষ বিষয় নিয়ে ব্লগিং করতে করতে একদিন সাফল্য অবশ্যই পাবেন।

COMMENTS

Name

Android,3,Bangla Tech News,3,Blogger Templates,1,Blogging Tips,8,How to earn money,3,Technology Tips,17,
ltr
item
Totobangla.net - Bangladeshi tech news website: ব্লগিং নিশ কি? কিভাবে সবচেয়ে সহজ ব্লগিং নিশ বাছাই করবেন?
ব্লগিং নিশ কি? কিভাবে সবচেয়ে সহজ ব্লগিং নিশ বাছাই করবেন?
ব্লগিং নিশ কে একটা আর্টিকেলের মাধ্যমে সম্পূর্ন আলোচনা করা সম্ভব না।কারন ব্লগিং নিশ হলো একটি তথ্যবহুল সেক্টর।ব্লগিংয়ের গুরুত্বপূর্ন ধাপ হলো, নিশ সিলেকশন।
https://1.bp.blogspot.com/-6uy8GxHLXZY/XYPNKM7JtmI/AAAAAAAABIA/AXi--KQtpQAbIUymwfRxw9J9TZLJFJTwACLcBGAsYHQ/s1600/%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%2597%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2582-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25B6-%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25AD%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%2587-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B9%25E0%25A6%259C-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%2597%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2582-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25B6-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%259B%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%2587-%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25A8.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-6uy8GxHLXZY/XYPNKM7JtmI/AAAAAAAABIA/AXi--KQtpQAbIUymwfRxw9J9TZLJFJTwACLcBGAsYHQ/s72-c/%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%2597%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2582-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25B6-%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25AD%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%2587-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B9%25E0%25A6%259C-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%2597%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2582-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25B6-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%259B%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%2587-%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25AC%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25A8.jpg
Totobangla.net - Bangladeshi tech news website
https://www.totobangla.net/2019/09/blogging-niche-idea.html
https://www.totobangla.net/
https://www.totobangla.net/
https://www.totobangla.net/2019/09/blogging-niche-idea.html
true
2751192689318996488
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy